টলিপাড়ায় ফের চর্চার কেন্দ্রে জীতু কমল এবং সায়নী ঘোষ। গত কয়েকদিন ধরেই বাংলা বিনোদন জগতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন জীতু। কখনও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কখনও সিনিয়র শিল্পীদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। সেই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জীতুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সায়নী ঘোষ।
একটি পোস্টে সায়নী জীতুকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করেন এবং তাঁকে ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত’ বলেও মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে অতিরিক্ত উচ্চ ধারণা না রাখার পরামর্শও দেন অভিনেত্রী-সাংসদ। এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে সেই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সামনে আসেন জীতু কমল।
জীতু দাবি করেন, অতীতে তিনি এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সমস্যার মধ্যে পড়লেও কোনও সাহায্য পাননি। বরং একটি বার্তার মাধ্যমে পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ এখন আর সহজে সব কথা বিশ্বাস করছে না। নিজের বক্তব্যে তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকেও কটাক্ষ করেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এরপর পুরনো একটি বিতর্ক টেনে এনে সায়নী ঘোষকে আক্রমণ করেন জীতু। অভিনেতার অভিযোগ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনা তিনি ভোলেননি। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের প্রসঙ্গ টেনে জীতু বলেন, অনেকেই রাজনৈতিক চাপে মুখ খুলতে পারেন না। তাঁর দাবি, তিনি কোনও সুবিধা নিয়ে কাজ করেননি এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুনঃ দিন হোক বা রাত, মহিলারা যাতে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করাই বিজেপি সরকারের লক্ষ্য! অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ইমন!
এতেই থামেননি অভিনেতা। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের পরিবার সরকারি কোনও সুবিধা নেয় না বলেও দাবি করেছেন জীতু। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তুমুল আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মতভেদ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, সব মিলিয়ে ‘অপরাজিত’ জুটির এই প্রকাশ্য সংঘাত এখন টলিপাড়ার অন্যতম বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
